বাংলাদেশে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের ইতিহাসে প্রথমবার সব দলিল অনলাইনে যুক্ত হলো। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের পর থেকে যে সমস্ত দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে, তা ধাপে ধাপে সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে।
এবারের উদ্যোগের ফলে দেশের প্রতিটি জমির মালিক যেকোনো সময় অনলাইনে নিজের দলিলের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। দেশি-বিদেশি সকল ব্যবহারকারীর জন্য এটি একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি সূত্র জানায়, দলিল যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে। এর ফলে কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সঠিক তথ্য পেতে পারবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কেন এই উদ্যোগ?
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, দলিল অনলাইনকরণের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত অনেক সমস্যা দূর করা যাবে। এর মধ্যে মূল সুবিধাগুলো হলো:
-
জমি নিয়ে জালিয়াতি ও ভুয়া মালিকানা দাবি বন্ধ হবে,
-
বিদেশে থাকা প্রবাসীরাও মোবাইল ফোনে দলিল যাচাই করতে পারবেন,
-
উত্তরাধিকার সূত্রে বঞ্চনার সুযোগ কমবে,
-
হারানো দলিলের সার্টিফাইড কপি সহজেই ডাউনলোড করা যাবে,
-
জমি সংক্রান্ত প্রতারণা, জাল দলিল ও জোরপূর্বক দখল রোধ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই পদক্ষেপ জমি লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে।
যাদের দলিল এখনো অনলাইনে হয়নি:
সব জেলার দলিল এখনো একসাথে অনলাইনে যুক্ত হয়নি। সরকার ধাপে ধাপে প্রতিটি জেলার দলিল আপলোড করছে। যদি কারও দলিল এখনো অনলাইনে দেখা না যায়, তবে করণীয় হলো:
-
সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা,
-
দলিলের মূল কপি বা সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়া,
-
রেকর্ডে না থাকলে নতুন করে তথ্য যাচাই করে অনলাইনে যুক্ত করা হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সকলের দলিল অনলাইনে যুক্ত করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে অনেক দলিল নষ্ট হয়ে গেছে। এর সঙ্গে জাল দলিল প্রবেশ করানোও হয়েছে। ফলে প্রকৃত মালিকরা নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব প্রতারণার পথ বন্ধ হবে। যারা এখনো অনলাইন সুবিধা পাননি, তাদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিটি জেলার কাজ শেষ হলে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। সূত্র: জনকন্ঠ

