নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা এলাকায় যুবলীগ কর্মী সুমনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হাফেজা বেগম মারা গেছেন। সুমনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার তিন দিন পর রবিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে দুপুরে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করান।
চলতি সপ্তাহের গত সোমবার বিকেলে সোনাকান্দা মোড়ে জানাজার নামাজে সুমন অংশ নেন। বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, সুমনকে পুলিশি প্রহরায় জানাজায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুমনের বড় ভাই ইকবাল হোসেন বলেছেন, “আমার ভাই বর্তমানে কোনো পদে না থাকলেও যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এর আগে তিনি ছাত্রলীগের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।”
ইকবাল আরো বলেন, “সুমনের গ্রেপ্তারের পর নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হাফেজা দুই দিন ধরে থানা ও আদালতে ছুটে বেড়িয়েছিলেন। চলতি মাসের শেষে সন্তান জন্মের সম্ভাবনা ছিল। শনিবার সকাল থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করান। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।”
জানাজার সময় উপস্থিতরা জানান, স্বজনরা সুমনকে নবজাতক সন্তানের ছবি দেখালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজা শেষে সুমন আবার কারাগারে ফিরানো হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, সুমন বন্দর উপজেলার যুবলীগ নেতা খান মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং এলাকার ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবসার একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। মাসুদ বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সশস্ত্র হামলা ও হত্যার অভিযোগে পলাতক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুমন কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন, পরে এলাকায় ফিরে আসেন।

