রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মাটির নিচে প্রায় ৪০ ফুট গভীর থেকে তাকে বাইরে তুলে আনেন। উদ্ধার করার সময় শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের ইত্তেফাক ডিজিটালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাচ্চাটি জীবিত নাকি মারা গেছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার করার সাথে সাথে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছিল বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে। তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের একটি মাঠে খেলার সময় হঠাৎই সাজিদ পায়ের নিচের মাটি ভেঙে গভীর গর্তে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য দীর্ঘসময় চেষ্টা চালায়।
উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বিকেল পাঁচটা ত্রিশ থেকে স্কেভেটরের সাহায্যে গর্তের পাশ দিয়ে সমান্তরাল আরেকটি পথ খোঁড়া শুরু হয়। মাটি সরাতে ব্যবহার করা হয় দুটি ট্র্যাক্টর। শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে গর্তের ভেতরে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোয়েলহাট এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। গ্রামের একজন বাসিন্দা আগে পানি পরীক্ষা করতে গর্তটি করেছিলেন এবং পরে সেটি ভরাটও করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর বৃষ্টির কারণে মাটি দেবে গিয়ে পুরোনো সেই গর্তটি আবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। বুধবার সাজিদের মা রুনা খাতুন মাঠে ধানের খড় আনতে গেলে শিশুটি খেলতে খেলতে সেই গর্তে পড়ে যায়। গ্রামের মানুষজন প্রথমে নিজেরা উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

