বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতা চূড়ান্ত হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত নেতারা জানান, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও নতুন তিনটি দলের যুক্ত হওয়া এবং কিছু আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে। কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যেখানে জোটের সব দল প্রার্থী দিতে পারবে।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার জানিয়েছেন, “মনোনয়ন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আসন সমঝোতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
খেলাফতে মজলিসের শীর্ষ নেতা মামুনুল হক জানান, “জাতীয় স্বার্থ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বিবেচনায় আলোচনা অব্যাহত আছে। কিছু আসনে আমরা নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে অংশ নেব।” তার দল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০–৩৫ শতাংশ আসনে সমঝোতা হয়েছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব নয়। তবে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং জোট ভাঙার কোনো শঙ্কা নেই।”
এখনও সমঝোতা চূড়ান্ত না হলেও জামায়াত ইসলামী ২৭৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বাকি ২৪টি আসন শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির নাহিদ ও আখতারসহ অন্যদের জন্য ৭টি আসন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ভোলা ও ময়মনসিংহে ২টি আসন, খেলাফতে মজলিসের মামুনুল হকসহ ৫টি আসন, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ২টি আসন, এলডিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আলোচনা চলছে এবং সব পক্ষই সমঝোতা রক্ষায় আন্তরিক।”

