রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় পাইপলাইন লিকেজের কারণে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানিয়েছেন, আমিনবাজার থেকে আসা পাইপলাইনটি বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে লিকেজ হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে মোহাম্মদপুরসহ কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কমানো হয়েছে।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানীর বাসিন্দারা। কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার ৬০ বছর বয়সী তাহমিনা আক্তার জানান, সকালে গ্যাস না থাকায় ফজরের নামাজের পরই সারাদিনের রান্না সারতে হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে সকালে এবং দুপুর পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, তাই হোটেল থেকে নাস্তা কিনে খেতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দারা একই সমস্যার মুখোমুখি। জাপান গার্ডেন সিটি’র একজন বাসিন্দা বলেন,
“আজ সকালেই নাস্তা হলো শুধু বিস্কুট দিয়ে। রুটি-পরোটার হোটেলগুলোতে দীর্ঘ লাইন। আমাদের স্কুলের ডে-কেয়ারও গ্যাস না থাকায় বন্ধ। শিশুদের জন্য খাবার হোটেল থেকে কিনে দিতে হচ্ছে। বাড়ির সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যদের খাবারের বিষয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“গ্যাস না থাকায় ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে। আমার এক সহকর্মী বাড়তি খরচে কিনেছেন।”
সাইদুল হাসান জানান, গত তিন দিন ধরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল একসাথে মেরামতের কাজ করছে। বুধবার একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো সম্ভব হয়েছে, তবে পুরোপুরি মেরামত শেষ হয়নি। ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে।
এদিকে, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, বাসাবো এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে রয়েছে। অনেক বাড়ির পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এত কম যে চুলা জ্বলছে না। কোথাও ভোর বা গভীর রাতে কিছুক্ষণ গ্যাস মেলে, তবে স্বাভাবিক রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাইদুল হাসান আরও বলেন,
“অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা করছি, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। জনগণকেও সচেতন হতে হবে, তা না হলে সংকট কাটানো কঠিন হবে।”
পাইপলাইনে গ্যাস কমে যাওয়ায় এলপি গ্যাস ও সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

