জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ড. খলিলুর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরোপিত ‘ভিসা বন্ড’ শর্ত শিথিলের অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে মার্কিন কৃষি পণ্যের বড় ধরনের আমদানি বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জবাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেয়।
ড. খলিলুর মার্কিন রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মার্কিন কারিগরি ও কূটনৈতিক সমর্থনের প্রশংসা করেন।
অ্যালিসন হুকার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রাখে। আমরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে অপেক্ষা করছি। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”
বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা বিশেষ আলোচনার বিষয় ছিল। ড. খলিলুর বি-১ (স্বল্পমেয়াদি বিজনেস) ভিসায় ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব দেন। হুকার জানান, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশি পর্যটকদের ‘ওভার স্টে’ হার কমে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে এই নীতি পর্যালোচনা করতে পারে। এছাড়া অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ড. খলিলুর বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে রোহিঙ্গাদের জন্য একক বৃহত্তম দাতা দেশ। তিনি এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এই ভূমিকার প্রশংসা করে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান দায়িত্ব নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিরও অনুরোধ করেন। বেসরকারি খাত ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাবও ড. খলিলুর বৈঠকে তুলে ধরেন। হুকার আশ্বাস দেন, বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
ড. খলিলুর গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহও জানান। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সফরের অংশ হিসেবে ড. খলিলুর বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চায়। আমি নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।”
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিরেক্টর অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস মাইকেল জে রিগাস। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

