শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেশে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দূরে বসে বক্তব্য দেওয়ার কোনো মূল্য নেই। সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের আওতায় কথা বলুক। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এক সাংবাদিক জানতে চান, পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ও বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করবে কি না।
জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোটাররা এতে শঙ্কিত নন। যারা বিদেশে পালিয়ে আছে তারা দূরে বসে অনেক কিছু বলতে পারে। এতে কোনো প্রভাব পড়ে না।
তিনি বলেন, যদি তাদের সত্যিই সাহস থাকে তাহলে দেশে এসে কথা বলুক। আইনের আশ্রয় নিক। বিদেশে পালিয়ে থেকে কথা বললে তার কোনো মূল্য নেই।
এর আগে শেখ হাসিনার শাসনামলেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরে মামলা মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল তারেক রহমানকে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র না করে সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান। একই বছরের ২১ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তারেক রহমানের প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেড সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবার সহযোগিতা থাকলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বা দায়িত্ব বহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে নির্বাচন প্রভাবিত বা ব্যাহত হয়।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাখাইন সীমান্তের পুরো অঞ্চল বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নেই। ফলে বাংলাদেশ সীমান্তে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটলেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। তবে আরাকান আর্মিকে এখনো বৈধতা দেওয়া হয়নি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সম্প্রতি মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশের এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের সময় মাঝে মাঝে গোলা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়ে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিজিবিও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের ৬১টি জেলায় বিজিবির ৩৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এবার বিজিবির একটি ব্যাচে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সৈনিক যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং নারী ৭৩ জন।

