অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালাগ (সিপিডি)। সংস্থাটির দাবি, এই মহাপরিকল্পনা কার স্বার্থে করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এমনকি এটি কোনো আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পূর্বশর্ত পূরণে প্রণয়ন করা হয়েছে কি না সে বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।
সিপিডির মতে, বর্তমান সময়ে এলএনজিসহ জ্বালানি খাতে যে বহুমুখী সংকট চলছে, খসড়া মহাপরিকল্পনায় তার প্রতিফলন নেই। সংকট সমাধানের দিকনির্দেশনাও সেখানে অনুপস্থিত।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০): সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিওতি।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একটি উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গবেষণাভিত্তিক হওয়ার কথা। এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণমূলক মতামতের প্রতিফলন থাকার কথা। কিন্তু এই খসড়ায় তার কোনোটিই দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে যে তীব্র সংকট চলছে, তা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি খসড়া প্রণয়নে খুবই দুর্বল। বাস্তবে এসব সংকট প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, অন্তর্বর্তী সরকার যখন এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, তখন এত দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজন কেন। এই তাড়াহুড়ার পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিও ভাবনার বিষয়।
ড. মোয়াজ্জেম বলেন, এটি কি কোনো পক্ষকে তুষ্ট করার জন্য করা হচ্ছে, নাকি কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্ত হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—সে প্রশ্ন এড়ানো যাচ্ছে না।
তিনি জানান, গত এক দশক ধরে সিপিডি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে কাজ করে আসছে। বিগত সরকারের সময় নানা বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির মধ্যেও গবেষণা চালাতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় কিছুটা সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই এই মহাপরিকল্পনার খসড়া তৈরি হওয়া সিপিডির জন্য বিব্রতকর।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গোপনে এ ধরনের কাজ শেষ করা আগের সরকারের আচরণের সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ। সিপিডি শুরুতে ভেবেছিল, হয়তো তারা বাদ পড়েছে এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। পরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, কেউই এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। কোথাও থেকে কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত বা গবেষণা প্রতিবেদন নেওয়া হয়নি।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভবিষ্যতে যে সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক, সেই সরকারে জ্বালানি খাতে যেন সাউন্ড মন্ত্রী আসেন।

