সৌদি আরবে কর্মরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি সরকারের দীর্ঘদিনের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতে লেখা পাসপোর্টের সময়কালে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তারা ওমরা ভিসা বা কর্ম ভিসায় সৌদি আরবে যান। পরে তারা দেশে ফেরেননি। বর্তমানে সৌদিতে থাকা অনেক রোহিঙ্গা মা-বাবার কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেও তাদের সন্তানের কোনো পাসপোর্ট নেই।
এই পাসপোর্টবিহীন সন্তানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজারে। তাদের একটি বড় অংশ সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়েও পাসপোর্ট পায়নি। প্রায় এক দশক ধরে এসব অবৈধ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য সৌদি সরকার বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে।
সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অনেক বাংলাদেশি নিজেকে রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে সৌদি আরবে কাজ করছেন। তারা সেখানে পরিবারও গড়েছেন। সৌদি আইনে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য প্রতি মাসে ২০০ রিয়াল ফি দিতে হয় না। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অনেকে রোহিঙ্গা পরিচয় দিচ্ছেন। এভাবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ সৌদিতে অবস্থান করছেন, যাদের কারও বৈধ পাসপোর্ট নেই। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের পাসপোর্ট দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি সরকারের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সম্প্রতি তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নেওয়ার অনুরোধও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ঢাকা থেকে বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি জানান, আবেদনের তুলনায় পাসপোর্ট এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার কিছুটা কম। বিষয়টি সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশটিতে ৩২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

