কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা এলাকায় অবস্থিত জটিল ও জরাজীর্ণ মগনামা জেটি দেড় লাখের বেশি মানুষ ও ট্রাকসহ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। জেটির পাটাতন নড়াচড়া করছে, কোথাও সিমেন্ট-কংক্রিট খসে পড়ছে, কোথাও মরচে ধরা রড বের হয়ে গেছে। তবুও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই জেটি ব্যবহার করে নৌযানে ওঠানামা করছে এবং কৃষি ও জেলের উৎপাদিত পণ্য দেশের নানা স্থানে পাঠাচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন জানায়, জেটিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ১২ আগস্ট। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জেটি কক্সবাজার জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলে নৌযান চলাচল শুরু হয়। জরাজীর্ণ জেটির ওপর ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা নৌযানে ওঠানামা করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি স্থানে রেলিং ভেঙে গেছে, পলেস্তারা ধসে রড বেরিয়ে পড়েছে। অন্তত ১০টি খুঁটির অবস্থা নাজুক, দুটি খুঁটির লোহা ভেঙে গেছে। একাধিক সিঁড়ি মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা বসিয়ে যাত্রী ও মালামাল ওঠানামা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মাঝি আবুল হাশেম বলেন, ‘জেটি ভাঙা থাকায় নৌকা ভেড়াতে কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার না হলে একদিন বড় বিপদ হবে।’ জেলে বাদশা মিয়া ও অন্যান্য স্থানীয়রা একই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শহীদ উদ্দিন বলেন, জেটিটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে বর্তমান অবস্থায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী জেটি থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।
চলতি বছর জেটিটির ইজারা হয়নি। আদালতের নির্দেশনায় ইজারার কার্যক্রম স্থগিত আছে। সাবেক ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধি দল জেটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘জেটি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মাছ পরিবহনে ব্যবহৃত বড় ট্রাক জেটির ভেতরের অংশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ মন্তব্য করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ জেটি সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে।

