ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটারদের জন্য বড় ধরনের ডিজিটাল সুবিধা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার আর ভোটকেন্দ্র খুঁজতে ঘুরে বেড়াতে হবে না, পোস্টার বা তালিকার ওপর নির্ভর করতে হবে না। মোবাইল ফোন হাতে থাকলেই ঘরে বসে জানা যাবে নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়, কীভাবে যাবেন এবং সেখানে কী কী নির্দেশনা মানতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ, যার নাম ‘স্মার্ট ইলেকশন বিডি’।
এই অ্যাপটি ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোন—যেকোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরাই এটি সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন।
অ্যাপটিতে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করলেই মুহূর্তের মধ্যে ভোটার নিজের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের তথ্য পেয়ে যাবেন। কেন্দ্রের নাম ও পূর্ণ ঠিকানার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে জিও লোকেশন ও ম্যাপ সুবিধা। ফলে ভোটার চাইলে সরাসরি ম্যাপে দেখে নিতে পারবেন—কেন্দ্রটি ঠিক কোথায়, বর্তমান অবস্থান থেকে কত দূরে এবং কীভাবে সেখানে পৌঁছানো সবচেয়ে সহজ হবে।
শুধু তাই নয়, অ্যাপে ভোটকেন্দ্রের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভোটার আগে থেকেই জায়গাটি চিনে নিতে পারেন। পাশাপাশি নির্বাচনের দিন কী কী নির্দেশনা মানতে হবে, ভোট দেওয়ার সময় কী কী বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এখানে পাওয়া যাবে।
এই ডিজিটাল উদ্যোগ কেবল ভোটকেন্দ্র জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করতে অ্যাপটিতে যুক্ত করা হয়েছে প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্যও। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচিতির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা দেখার সুযোগ থাকছে এতে। ফলে ভোটাররা প্রার্থীদের যোগ্যতা, পেশা, সম্পদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও এই অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রভিত্তিক ও সার্বিক ফলাফল সরাসরি অ্যাপেই দেখা যাবে। এতে করে ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে পারবেন।
কমিশনের আশা, এই ডিজিটাল সেবার ফলে ভোটারদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে যে অনাগ্রহ দেখা যায়, তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত প্রজন্মকে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করতে এই অ্যাপ একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে, ‘স্মার্ট ইলেকশন বিডি’ শুধু একটি অ্যাপ নয়—এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ভোটারবান্ধব করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

