অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (আজ) সকালে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের আগে নিজের কার্যালয়ে সচিবদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে তিনি এই ধন্যবাদ জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকে দেশের প্রায় ৭০ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সচিবদের পক্ষে একমাত্র বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই এই মেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। যেসব কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, সেগুলো ভবিষ্যৎ সরকার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠক সূত্র জানায়, অধ্যাপক ইউনূস সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা আবারও উল্লেখ করেন—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার কাজ শুরু করেছিল। এ সময় তিনি জানান, বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও সরকার রেখে যাচ্ছে, যা পরবর্তী সরকার বিবেচনায় নেবে বলে তিনি আশা করেন।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক সচিব বলেন, মূলত সরকারি কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও নিষ্ঠার জন্যই প্রধান উপদেষ্টা এই কৃতজ্ঞতা সভার আয়োজন করেন। আরেক সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও সম্মানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে সচিবদের সঙ্গে এই বৈঠক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে এটি পরবর্তী সরকারের জন্য চলমান সংস্কার ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিতও দেয়

