কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট চলছিল। কুমিল্লা-১১ আসনের এ কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রের পাশে পরপর ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভোটাররা আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন।
ঘটনার সময় কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তারা দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ৩ হাজার ৯০৬ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।
কেন্দ্রে থাকা বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার সমর্থকেরা অভিযোগ করেন, সুষ্ঠু ভোট ব্যাহত করতে জামায়াত-শিবিরের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পক্ষের লোকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল। কোনো পক্ষ পরিবেশ নষ্টের উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পাশেই সেনাবাহিনী থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে ভোট গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান বলেন, জগন্নাথদীঘিসহ পাশের আলকরা ও গুণবতী ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকেরা সকাল থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অনেক কেন্দ্র তাদের নিয়ন্ত্রণে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, দুপুরের দিকে কয়েকজন এসে ভোটারদের সরে যেতে বলে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রের দুই দিক থেকে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হয়।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক তৌহিদুর আজম বলেন, তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। এ ঘটনায় জামায়াতের কেউ জড়িত নন। যেদিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ এসেছে, সেখানে বিএনপির লোকজন অবস্থান করছিল বলে তার দাবি। পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. রাশেদ বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছিলেন। এ সময় ককটেলের মতো শব্দ শোনা যায়। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক এবং ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

