মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জুলাইয়ের রক্তমাখা গ্রেনেড হামলার ঘটনা যেন ভেসে গেছে অতীতের বন্যায়। সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পর আসে নির্বাচনের আলো, যেখানে কারাগার থেকে বেরিয়ে বিজয়ী হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও জামায়াতের কিছু প্রভাবশালী নেতা।
বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। কথিত ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি সংসদের আসনে উঠে দাঁড়ানোর দৃশ্য সত্যি হলেও তা বাস্তব হয়ে উঠেছে।
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। জামিন পাননি একদিনও। কারাগারের অন্ধকার কক্ষে কাটে তার ১৮ বছরের দীর্ঘ সময়। আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি সব মামলায় খালাস পান এবং ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পান। এরপর তিনি ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী হন।
আবদুস সালাম পিন্টুও একই গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৭ বছরের কারাজীবন শেষে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্ত হন। জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, প্রায় ২ লাখ ভোটে।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটে তিনি জিতে সংসদে প্রবেশ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০১২ থেকে কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ তিন নেতা কারাবাসের অন্ধকার থেকে উঠে এসে নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিল ছবি। ফাঁসির দণ্ড থেকে সংসদে পৌঁছানোর পথ যেন দেশের রাজনীতির অপ্রত্যাশিত মোড়ের প্রমাণ।

