জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ জানিয়েছেন, জুলাই সনদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আগামী জাতীয় সংসদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আলী রিয়াজ বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ প্রক্রিয়াকে সমন্বিত করে বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর। তারা আলোচনা ও মতভেদ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।
গণভোটের ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছিল তা স্বীকৃতি পেয়েছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ভাষায়, গণভোট একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, এবারের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে এক শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে। গণভোটে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে বেশি ভোট পড়াকে তিনি অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন।
আলী রিয়াজ আশা প্রকাশ করেন, নোট অব ডিসেন্টসহ ভিন্নমতগুলোকেও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন। তার মতে, জুলাই সনদ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় রয়েছে।
বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলটি সংস্কারের পক্ষে রয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রত্যাশা, তারা এ অবস্থান বজায় রাখবে। লিখিত আইনগত ব্যাখ্যার চেয়ে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই সনদের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে আলী রিয়াজ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

