ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কোনো বিভাজন ছাড়াই শপথ পড়িয়ে নতুন নজির স্থাপন করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তিনি পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান।
দেশের সংসদীয় ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব পালন করলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে সে সময় রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সব সদস্যকে তিনি শপথ করাতে পারেননি। এবার কোনো বিতর্ক বা বিভাজন ছাড়াই সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর বর্তায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দি। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পাঠ করানোর অনুরোধ জানানো হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ করাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিচারপতি আব্দুর রউফ সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে সেই প্রেক্ষাপট ছিল আলাদা।
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন দেখা যায়নি। ‘জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং একই অনুষ্ঠানে পরে ‘পরিষদ সদস্য’ হিসেবে শপথ নেন।

