২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রক্তক্ষয়ী বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও শোষনমুক্ত সমাজ। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এক ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি। যখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তা কেবল একটি মন্তব্য থাকে না; তা হয়ে দাঁড়ায় অপরাধীদের জন্য এক অঘোষিত দায়মুক্তি।
সড়ক পরিবহন ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সেই একটি শব্দ—‘সমঝোতা’—পুরো দেশের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এই একটি শব্দে কি তবে ১৬-১৮ কোটি মানুষের পকেট কাটার লাইসেন্স দেওয়া হলো? মন্ত্রীর এই উক্তি চাঁদাবাজদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
চাঁদাবাজির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: সমঝোতা না কি দাসত্ব?
মন্ত্রীর ভাষায় যা সমঝোতা, মাঠপর্যায়ে তা মূলত একতরফা জুলুম। পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে যে অর্থ আদায় করা হয়, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। মন্ত্রী মনে করেন, এই টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে এবং কেউ জোর করছে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্রতিটি টার্মিনালে বাস বা ট্রাক ঢোকা-বের হওয়ার সময় যে অর্থ দিতে হয়, তা না দিলে চালককে লাঞ্ছিত হতে হয়, এমনকি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ‘সমঝোতা’ শব্দটি চাঁদাবাজিকে একটি আইনি মোড়ক দেওয়ার অপচেষ্টা মাত্র। যখন একজন অসহায় চালক তার উপার্জনের একটি বড় অংশ কোনো সেবা না পেয়েই দিতে বাধ্য হন, তখন তাকে সমঝোতা বলা জাতির সাথে একনিষ্ঠ উপহাস।
পরিবহন খাতের মহোৎসব: কোটি টাকার টোকেন বাণিজ্য
বাংলাদেশের পরিবহন খাত এখন চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেবল ঢাকা শহরের অর্ধশতাধিক টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা আদায় হয়। মাস শেষে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৬৬ থেকে ৮০ কোটি টাকায়। মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রতিটি দূরপাল্লার বাসকে বের হওয়ার সময় ৫২০ টাকা ‘জিপি’ (Gate Pass) দিতে হয়। এই টাকার ভাগ পায় মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী। চট্টগ্রামের চিত্র আরো ভয়াবহ। কাপ্তাই রাস্তার মোড়, অলঙ্কার বা বহদ্দারহাটে ‘টোকেন’ ছাড়া কোনো রিকশা বা টেম্পো চলতে পারে না। সেখানে মাসে কেবল একটি মোড় থেকেই প্রায় ১ কোটি টাকার বাণিজ্য চলে। রুট পারমিট থাক বা না থাক, চাঁদাবাজদের টোকেন থাকলেই রাস্তা পরিষ্কার—এটিই এখন বাংলাদেশের অঘোষিত ‘আইন’।
প্রান্তিক মানুষের হাহাকার: রিকশা ও ফুটপাতের আর্তনাদ
চাঁদাবাজি এখন আর কেবল বড় বড় বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পৌঁছে গেছে সমাজের ক্ষুদ্রতম স্তরে। দেশের প্রায় ৪০ লাখ রিকশাচালক এখন এই চক্রের কাছে জিম্মি। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজি-বাইককে মাসিক ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার স্টিকার বা টোকেন কিনতে হয়। একজন রিকশাচালক সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যা আয় করেন, তার ২০ শতাংশই চলে যায় এই তথাকথিত ‘লাইনম্যান’ বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের পকেটে। ফুটপাথের হকারদের অবস্থা আরো করুণ। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে হকারটি সবজি বা ফল বিক্রি করেন, তাকে দৈনিক ৫০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয় ‘জায়গা ভাড়া’ হিসেবে। অথচ এই ফুটপাথ রাষ্ট্রের সম্পত্তি। মন্ত্রীর ‘সমঝোতা’ তত্ত্ব এই ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বাজার সিন্ডিকেট: ডাইনিং টেবিলের নীরব ডাকাত
চাঁদাবাজির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায়। কৃষিপণ্য বোঝাই একটি ট্রাক যশোর বা বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছাতে অন্তত ৫ থেকে ৭টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। ফেরিঘাট, আড়ত এবং সিটি কর্পোরেশনের টোলের নামে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়, তার সরাসরি ভার পড়ে ভোক্তাদের ওপর। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)-এর গবেষণা মতে, বছরে কেবল বাস-মিনিবাস থেকে ১,০৫৯ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হলেও বাজার ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাঁদা যোগ করলে এই অঙ্ক ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আলুর কেজি বা ডিমের ডজন বাড়ার পেছনে এই ‘ছায়া খরচ’ একটি প্রধান ফ্যাক্টর। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ যখন উচ্চমূল্যের বাজারে দিশেহারা, তখন এই চাঁদাবাজরা আড়ালে বসে তাদের পকেট কাটছে।
নির্মাণ খাত ও রিয়েল এস্টেট: আবাসন যখন দুঃস্বপ্ন
ব্যক্তিগত পর্যায়েও চাঁদাবাজি এখন এক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নিজের জমিতে বাড়ি করতে গেলে পাড়ার ‘ভাই’দের নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির ধরন এখন ভিন্ন। তারা সরাসরি টাকা না চেয়ে অনেক সময় নিম্নমানের বালু, ইট বা রড বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য করে। কোনো ডেভেলপার কোম্পানি কাজ শুরু করলে তাদের ওপর কোটি টাকার ‘পার্সেন্টেজ’ চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আবাসন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের সারা জীবনের স্বপ্ন একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই যখন এই চাঁদাবাজদের লালসার শিকার হয়, তখন সেই জাতির উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।
রাজনৈতিক প্রভাব ও দায় এড়ানোর রাজনীতি
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল লুণ্ঠন ও দখলদারিত্ব বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কেবল নিয়ন্ত্রকের নাম বদলেছে, পদ্ধতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিগত সরকার পতনের পর পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ এখন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে। রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর হওয়ার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই। বহিষ্কৃত অনেক নেতাও স্থানীয় প্রভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়াই এই সমস্যার মূল উৎস। যখন কোনো দল ক্ষমতায় আসে বা প্রভাবে থাকে, তাদের কর্মীরাই এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এটি যেন এক অলিখিত উত্তরাধিকার সূত্র, যা ভাঙার কোনো সদিচ্ছা রাজনৈতিক মহলে দেখা যাচ্ছে না।
চাঁদাবাজির মনস্তত্ত্ব ও আতঙ্কের সংস্কৃতি
কেন ভুক্তভোগীরা মুখ খুলছেন না? উত্তরটি হলো—নিরাপত্তাহীনতা। চাঁদাবাজরা এখন কেবল ভয় দেখায় না, তারা মব (Mob) তৈরি করে বা প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে মানুষকে কোণঠাসা করে দেয়। পাথর নিক্ষেপে খুনের মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগীরা মনে করেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজদের সাথে প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার গোপন আঁতাত থাকে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই চাঁদাবাজদের দুঃসাহসকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। তারা জানে, ‘সমঝোতা’র দোহাই দিয়ে যেকোনো অপরাধ পার পাওয়া সম্ভব।
ইসলামি ও নৈতিক অবক্ষয়: হারাম উপার্জনের উল্লাস
ইসলামে চাঁদাবাজি তথা অন্যায্যভাবে অন্যের সম্পদ গ্রহণকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস না করতে। অথচ আমাদের মুসলিম প্রধান দেশে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ বা ‘মসজিদ তহবিলের’ নাম দিয়ে এই হারাম অর্থকে হালাল করার চেষ্টা করা হয়। এটি কেবল অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির নৈতিক মৃত্যু। যখন একজন মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে অন্যের ভোগ-বিলাস চলে, তখন সেই সমাজে আল্লাহর গজব ও বিশৃঙ্খলা অবধারিত। এই নৈতিক অবক্ষয় আমাদের শিক্ষা ও পারিবারিক কাঠামোকেও বিষাক্ত করে তুলছে।
অর্থনীতির ওপর ভয়ংকর প্রভাব: প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা
চাঁদাবাজি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক লুণ্ঠন। অর্থনীতিবিদদের মতে, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি অন্তত ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেত। বিনিয়োগকারীরা (FDI) বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পান কারণ এখানে উৎপাদনের খরচের চেয়ে ‘পরিচালন ব্যয়’ বা এই ছায়া খরচ অনেক বেশি। এটি একটি উৎপাদনহীন খরচ, যা অর্থনীতির রক্ত শুষে নিচ্ছে। বেকার তরুণরা যখন দেখে শ্রম না দিয়ে কেবল রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয় করা যায়, তখন তারা উৎপাদনশীল কাজ ছেড়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। এটি একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির পথে বড় অন্তরায়।
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আইনের অপপ্রয়োগ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়ই একে ‘দুই পক্ষের বিষয়’ বা ‘মালিক-শ্রমিকের অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ বলে এড়িয়ে যায়। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন চাঁদাবাজির বিষয়ে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলেন, তখন ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে পড়েন। কারণ স্থানীয় থানাগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক চাপের মুখে নিস্পৃহ থাকে। র্যাব বা ডিবির অভিযানে কিছু ছিঁচকে চাঁদাবাজ ধরা পড়লেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই কাঠামোগত দুর্বলতাই চাঁদাবাজিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
সমাধানের মহাপরিকল্পনা: চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ চাই
জাতির নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল ভাষণ নয়, প্রয়োজন কার্যকর অ্যাকশন:
- অ্যান্টি-এক্সটরশন স্কোয়াড (AES): পুলিশের একটি বিশেষায়িত ও স্বাধীন ইউনিট গঠন করতে হবে যারা কেবল চাঁদাবাজি নির্মূলে কাজ করবে।
- ন্যাশনাল হটলাইন ১০১: একটি ২৪/ ঘণ্টা সক্রিয় কল সেন্টার যেখানে পরিচয় গোপন রেখে ভিডিও বা অডিও প্রমাণসহ অভিযোগ জানানো যাবে।
- ক্যাশলেস পরিবহন ব্যবস্থা: প্রতিটি বাসের ফি বা টোল কেবল ডিজিটাল মাধ্যমে (বিকাশ/নগদ/কার্ড) পরিশোধ করতে হবে।
- বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: চাঁদাবাজির জন্য আলাদা আদালত গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা: যদি কোনো দলের সদস্য চাঁদাবাজিতে যুক্ত থাকে, তবে সেই দলকে রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা
চাঁদাবাজি কেবল আইন দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামাজিক বয়কট। ব্যবসায়ী সমিতি ও সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ‘চাঁদা দেব না, দেব না’—এই শ্লোগান প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। আইনকে চাঁদাবাজ দমনে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং চাঁদাবাজদের ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হবে।
একটি জাতির সামনে অগ্নিপরীক্ষা
সমঝোতার চাঁদা কি বৈধ? এই প্রশ্নের উত্তর আজ প্রতিটি শোষিত মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—না, এটি বৈধ নয়। সমঝোতার নামে যা চলছে তা হলো একটি স্বাধীন জাতির ওপর সঙ্ঘবদ্ধ দস্যুবৃত্তি। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি এই নীরব লুণ্ঠন সহ্য করে যাব, নাকি মাথা উঁচু করে দাঁড়াব? এ দেশের সকল শহীদদের রক্ত আমাদের কাছে দায়বদ্ধতা চায়। তারা প্রাণ দিয়েছিল এমন এক বাংলাদেশের জন্য যেখানে রিকশাচালক তার পূর্ণ আয় বাড়ি নিয়ে যাবে, হকার তার ছোট দোকানটি নির্ভয়ে চালাবে এবং দেশের উন্নয়ন বাজেট কোনো রাজনীতিকের পকেটে যাবে না।
আজকের এই প্রতিবেদন কেবল তথ্য নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। যদি এখনই এই ‘সমঝোতা’র বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে এই মহীরুহ পুরো বাংলাদেশকে গ্রাস করবে। চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ কেবল একটি চাওয়া নয়, এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে এখন এই লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে হবে।
- লেখক—এফ.আর. ইমরান: নির্বাহী সম্পাদক, সিটিজেনস ভয়েস।

