ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর দিল্লি ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোও ভিসা কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুরু করেছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের এক কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উগ্রপন্থিদের হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখে গত দুই মাস ধরে দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে।
ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা সেবা পুনরায় চালু প্রসঙ্গে এক কূটনীতিক জানান, ভিসা পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ‘চিঠিপত্র দিয়ে’ নেওয়া হয়নি। ফলে পুনরায় চালু করতেও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্রের প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।
দিল্লিতে গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থনের বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলো সীমিত আকারে কার্যক্রম চালাচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে সেখানে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
দুই মাসের সীমাবদ্ধতার পর ধীরে ধীরে ভিসা পরিষেবা সম্প্রসারণ শুরু হওয়ায় সাধারণ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।
তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দুই দেশের পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর।

