অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করে এখন কিছুটা শান্ত সময় কাটাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তিনি এখনো যমুনায় অবস্থান করছেন। তবে আগের মতো আর ব্যস্ততা নেই—রাষ্ট্রীয় তৎপরতার বদলে এখন তার সময়ের বড় অংশ জুড়ে আছে পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মাস খানেকের মধ্যে অথবা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি যমুনায় অবস্থান করছেন।
ড. ইউনূসের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানিয়েছেন, তিনি ধীরে ধীরে ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন নথিপত্র গোছানো এবং সাংগঠনিক কাজ সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সময় দিচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততায় যা সম্ভব হয়নি, এখন সে সুযোগই যেন কাজে লাগাচ্ছেন।
সহযোগীর ভাষ্য, তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন ড. ইউনূস। তবে এখনো কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।
ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ—ভিত্তি করে ভবিষ্যতের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কর্মসূচি এ ধারণাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠতে পারে, যদিও এখনো নির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে বিদেশ থেকেও সফরের আমন্ত্রণ পাচ্ছেন তিনি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ সফরসংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বয় করছেন। কোথায় তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন—তা নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।
আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এক সহযোগী।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের চাপ কমলেও ড. ইউনূসের দিন শুরু হয় নিয়ম মেনে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যমুনার কম্পাউন্ডের ভেতর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন।
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছেন—যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়।
একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ জানতে চান অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা, কেউ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আবার কেউ ব্যক্তিগত বা পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
অফিসের কাজ শেষে তার সময় কাটে পরিবারের সঙ্গে। অসুস্থ স্ত্রীর পাশে থাকেন তিনি। বিকেলে আবার কিছুটা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলাপচারিতায়।
মেয়ের দুই বিড়াল—‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন যেন এক বিরতির সময়—নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার, ভাবনার নতুন দিগন্ত খোঁজার।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘনিষ্ঠদের মতে, ‘থ্রি জিরো’ দর্শনকে কেন্দ্র করেই আবারও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন তিনি—দেশে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।

