দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের ভিত্তিতে দেশের ও বিদেশের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকা কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি আদেশে সম্পদ ক্রোক এবং ১১টি আদেশে সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৬৯ দশমিক ২৬ একর জমি, ৪টি ভবন, ৬টি ফ্ল্যাট, ২টি দোকান, ১টি বাণিজ্যিক স্পেস, ১টি এফডিআর, ৬টি গাড়ি ও ১টি বীমা পলিসি ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ টাকা।
এছাড়া ৭৯টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৩ টাকা স্থিতি পাওয়া গেছে। ২টি বিও হিসাব এবং ১২ লাখ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৩১৩ টাকা।
বিদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি ফ্ল্যাট, ফিলিপাইনে ২টি ফ্ল্যাট, ভারতে ৯টি ফ্ল্যাট, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্পেস, কম্বোডিয়ায় ১১৭টি সম্পদ, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে ৩৩টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক করা হয়েছে। বিদেশে এসব সম্পদের মোট মূল্য বাংলাদেশী মুদ্রায় ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকা ২০ পয়সা। ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগও ক্রোক করা হয়েছে, যার বাংলাদেশী মূল্য ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
মাসিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪৬৭ জনের বিরুদ্ধে ৭৬টি এফআইআর, ১১০ জনের বিরুদ্ধে ৩৬টি চার্জশিট, ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৯টি ফাইনাল রিপোর্ট, ৯২টি নতুন অনুসন্ধান, ১৯টি পরিসমাপ্তি ও ৩৮টি সম্পদ বিবরণীর আদেশ জারি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ চিহ্নিতকরণ, জব্দ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

