আর্থিক অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর জটিলতা, অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং অদক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নওশাদ হোসেন। শেষ পর্যন্ত তাকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নওশাদ হোসেনকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। যদিও বিমানের অভ্যন্তরীণ একাধিক কর্মকর্তা এই বদলিকে ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের একটি ফরেন কারেন্সি হিসাব থেকে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় সিএফও নওশাদ হোসেন সম্পৃক্ত ছিলেন।
৬ জুন ২০২৫ তারিখের বিমানের একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১২৮৯০৭০০০০০১ থেকে ৫ লাখ ডলার পাঠাতে ‘ইরান এয়ারপোর্ট এয়ার নেভিগেশন কোম্পানি’ এবং এমিরেটস জেনারেল পেট্রোলিয়ামের ইনভয়েস ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত লেনদেনটি সম্পন্ন হয়নি এবং অর্থ গন্তব্য অ্যাকাউন্টে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন লেনদেন থেমে গেল, অর্থ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং দায় কার, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। বিমানের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ৫ লাখ ডলার এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে; অর্থ উদ্ধার হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে নওশাদ হোসেন বিমানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারি ব্যাংকের পরিবর্তে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখেন। এর মধ্যে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা আমানত রাখার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়লে ওই অর্থ ফেরত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত রাখার মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি এবং বিদ্যমান নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নওশাদ হোসেন বলেন,‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যে ৫ লাখ ডলারের কথা বলা হচ্ছে, সেটির হদিস পাওয়া গেছে। অর্থ দ্রুতই ফেরত আসবে।’ ফারমার্স ব্যাংকে আমানত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনা আমার বিমানে যোগদানের আগের। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

