আরবি শাবান মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে এ বছরের ঈদুল ফিতরের তারিখ। সম্ভাব্য হিসেবে আগামী মার্চ মাসের ২০ কিংবা ২১ তারিখে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবটি উদ্যাপিত হতে পারে।
রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এবার ঈদে কতদিন ছুটি মিলবে?
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় প্রথম রোজা।
হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। যদি মার্চ মাসের ২০ তারিখ শাবান মাসের ২৯তম দিনে ঈদের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তাহলে ঈদ হবে ২২ মার্চ।
বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের জন্য মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।
২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবে কদরের ছুটি রয়েছে। ১৮ মার্চ বুধবার কর্মদিবস। ১৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি, যা শেষ হবে ২৩ মার্চ সোমবার।
ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকবে। তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি রয়েছে। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।
এই হিসাব অনুযায়ী, কেউ যদি ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নেন, তাহলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন।
এমনকি ১৮ মার্চ একদিন অতিরিক্ত ছুটি নিলে শবে কদর থেকেই দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করা সম্ভব।
সরকারি ছুটির সঙ্গে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও ছুটি দেয়, তবে সেখানে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর।
ঈদ এলেই রাজধানী ঢাকা থেকে লাখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা দেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল মানুষের যাতায়াতের কারণে মহাসড়ক, রেলস্টেশন ও বাস-লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে তৈরি হয় তীব্র চাপ। অনেক সময় গণপরিবহন বন্ধ থাকলে মানুষকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটেও যেতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ছুটি তুলনামূলক বড় হলে যাত্রীদের চাপ কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যায়। এতে যানজট ও ভোগান্তি কিছুটা কমে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার নির্বাহী আদেশে বাড়তি ছুটি ঘোষণা করেছে। ২০২৩ সালে শবে কদরের পর অতিরিক্ত একদিন ছুটি দিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ঈদুল ফিতরের ছুটি পাঁচদিন করা হয়েছিল। গত বছর আবার নির্বাহী আদেশে একদিন বাড়তি ছুটি দেওয়া হয়।
লম্বা ছুটি থাকায় গত বছর তুলনামূলক স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলেন অনেকে।
সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ১৯ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, “ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করব।”
এবার রোজার শুরু থেকেই স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে।
কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে রমজান উপলক্ষে ছুটি শুরু হয়েছে। এই ছুটি থাকবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি এবং পরবর্তী শুক্র-শনিবার মিলিয়ে ২৯ মার্চ রোববার থেকে কলেজগুলো খুলবে।
মাধ্যমিক স্কুলে রমজানের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত হলেও হাইকোর্টে রিটের পর বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে এবং রোজার শুরু থেকেই স্কুল বন্ধ থাকে।
এখন সবার চোখ চাঁদ দেখার ঘোষণার দিকে। ২০ মার্চ চাঁদ দেখা গেলে ২১ মার্চ ঈদ, আর না হলে ২২ মার্চ।
তবে সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঁচ দিনের ছুটি নিশ্চিত। আর সামান্য পরিকল্পনা করলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ১০ দিনের বিশ্রাম উপভোগ করতে পারেন।
ঈদের আনন্দের সঙ্গে এবার বাড়তি ছুটির সম্ভাবনাও তাই আলোচনার কেন্দ্রে।

