মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা হামলা ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে পরপর দুটি বিবৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা সবার আগে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত কোনো সমাধান নয়; দ্রুত সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করে বাংলাদেশ।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানায় সরকার। তবে সেখানে ইরানের নাম না থাকায় সমালোচনা শুরু হয়। পরদিন নতুন বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’ এবং ইরানের জনগণের প্রতি শোক প্রকাশ করছে।
শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে খামেনিসহ বহু জ্যেষ্ঠ নেতা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
চলমান সহিংসতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত এবং কয়েকটি দেশে ৭ জন আহত হয়েছেন বলে সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, যেখানেই বাংলাদেশি নাগরিক আক্রান্ত হবেন, সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না। তবে প্রয়োজন হলে সব ধরনের দায়িত্ব পালন করা হবে।
কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। নিহত দুই নাগরিকের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা আনা হবে।
বাংলাদেশি কেউ দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও বৈঠক শেষে জানানো হয়।

