বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সুরক্ষা সুবিধা পাবেন।
১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্না এতে সই করেন। যদিও প্রজ্ঞাপনটি সম্প্রতি জনসমক্ষে আসে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যে সংশোধন আনা হয়েছে, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা এসআরও নং ২৮৫-এর পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পূর্বের আদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের পদে কর্মবসানের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ মর্যাদা পেতেন। বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।
নতুন সংশোধনের আলোকে ড. ইউনূস নিজের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে এক বছর নির্ধারণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে পূর্বের সময়সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইন সংশোধন করা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী হতে পারে। তাঁদের যুক্তি, যদি সময়সীমা সবার জন্য সমানভাবে বাড়ানো হতো, তবে সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক কম হতে পারত।
কিন্তু কেবল একজন ব্যক্তির জন্য সুবিধা বৃদ্ধি—এটিকে তারা নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ড. ইউনূস বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহণ—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিদায়ের আগে নিজ নিরাপত্তা সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। তবে এর বৈধতা, নৈতিকতা এবং সাংবিধানিক সামঞ্জস্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

