সরকার এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক ভিত্তিতে পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রত্যেকের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স ৭৫ বছর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল হাসান। তাঁর বয়স বর্তমানে ৭৫ বছর। জানা গেছে, তিনি ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৭৭ সালে ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইংয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ড. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন শহিদুল হাসান।
এর আগে গত রবিবার ৬৯ বছর বয়সী মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন রফিকুল আই মোহাম্মদ। তাঁর বয়স ৬৯ বছর। জন্ম ১৯৫৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের কর্মকর্তা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা আবদুল খালেক। তাঁর জন্ম ১৯৬১ সালের ৬ মার্চ, নেত্রকোনা জেলায়। তিনি আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ভূমি, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অফিসার্স ক্লাব, ঢাকার কোষাধ্যক্ষ এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর জন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ ডিসেম্বর, নোয়াখালী জেলায়। ৬৬ বছর বয়সে তিনি আবার প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তারা দায়িত্ব পালন করবেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি বা বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিকভাবে পুনর্নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই বিবেচনাতেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

