পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বড় পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী মে মাস থেকে দেশের সব জেলায় একযোগে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ‘কার্বন ট্রেডিং’ বা কার্বন বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মে মাসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে যুক্ত করা হবে। সারাদেশে একযোগে চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর এখন কার্বন ট্রেডিং খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশ আয় বৃদ্ধির সুযোগ পেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সরকারের এই বৃক্ষরোপণ ও কার্বন বাণিজ্যকেন্দ্রিক পরিকল্পনা পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা—দুই দিকেই নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

