ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন গভর্নরের নির্বাচনের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন নজরদারি কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। টিআইবি নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কাজেই এই নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়াটা সামনের পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দেশে ফেরার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে, যেকোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ করে দেওয়া, সেটি কিন্তু আরও বেশি গুরুতর প্রশ্ন। সেই ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, নিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে যদি লুটপাটের অন্যতম দায়ী শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবার কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনা হয়, সেটি কোনো অবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন গভর্নরের নিয়োগের উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসনের বিভিন্ন পদে জোরপূর্বক রদবদল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতি যদি সরকার প্রতিহত করতে না পারে, তবে এটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারণ, সরকারের একটি ভুল পদক্ষেপ প্রতিপক্ষকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে আশা সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্ত উদ্বেগজনক। একজন মন্ত্রী যখন চাঁদাবাজিকে বৈধ বলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে যখন গভর্নর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, দুদকের চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের পদত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থা সৃষ্টি করে, তখন বোঝা যায় সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও অনেক।

