আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে একটি নন-বাইন্ডিং বা বাধ্যতামূলক নয় এমন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি বর্তমানের তুলনায় বেশি পরিমাণে আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির খসড়া প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
গত বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জ্বালানি সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পথ খুঁজছে।
জ্বালানি বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, ঈদের আগেই খসড়া প্রস্তুত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম জ্বালানির আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি চুক্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনো হয়নি।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতার অংশ হিসেবে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এই এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি।

