রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ঈদ শপিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মচারী ও তার মেয়ে, পাশাপাশি তেজগাঁওয়ের ঘটনায় একজন সিএনজিচালক ও এক যাত্রীও প্রাণ হারিয়েছেন।
ঘটনাগুলোতে আহত আরও কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক সাজু আহমেদ সুমন তার একমাত্র মেয়ে সিথিকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সী সিথিকে সঙ্গে নিয়ে বাবা-মেয়ে সারাদিন কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন।
রাত প্রায় ৯টার দিকে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে পৌঁছালে একটি বালুভর্তি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই মারা যান সুমন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত গুরুতর আহত অবস্থায় সিথিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাবা-মেয়ে আনন্দের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় চরম শোকে।
এদিকে একই রাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকাতেও আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। হারুনর রশিদ সানি নামের এক ব্যক্তি ঈদের কেনাকাটা শেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন।
রাতের দিকে তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তার মোড়ে অটোরিকশাটি ইউটার্ন নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হারুনর রশিদ সানি এবং অটোরিকশাচালক আলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই দুর্ঘটনায় সানির স্ত্রী ও তার বোন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সূত্র জানায়, দুই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
রাজধানীতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। শুক্রবার রাতের এই দুই দুর্ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
ঈদের আনন্দে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বের হওয়া মানুষগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু রাজধানীবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

