দেশে তীব্র গ্যাস সংকটে বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি কারখানা উৎপাদন বন্ধ করেছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক মো. ফখরুল আলম জানান, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার বিকেল থেকে ২ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার এই কারখানার সার উৎপাদন থামানো হয়েছে।
এখন দেশে মোট পাঁচটি সার কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, যমুনা ফার্টিলাইজার কম্পানি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কম্পানি, বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানা। আশুগঞ্জ কারখানায় কয়েক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নরসিংদী থেকে জানা যায়, ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানাটি পুরোপুরি উৎপাদনে ছিল। উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর।
কারখানার গুদামে বর্তমানে পাঁচ লাখ ২৫ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে। উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন ৭১–৭২ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন। তবে ৫২–৫৩ পিএসআই গ্যাস থাকলেও উৎপাদন চালানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ হলে কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে নেওয়া যাবে। তবে কখন গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
গ্যাস রেশনিংয়ের অংশ হিসেবে দেশের পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিসিআইসি জানিয়েছে, সার কারখানাগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

