আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দুই মুখ্য সচিবের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সাবেক সচিবরা হলেন আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার স্ত্রী আফরোজা খান এবং ছেলে সারাফ ইসলামের ব্যাংক হিসাবও বিএফআইইউয়ের নোটিশে অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে বিএফআইইউ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে পিতামাতার নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংযুক্ত থাকতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদি তাদের খাতায় কোনো হিসাব থাকে, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড থাকে বা অন্য কোনো লেনদেনের তথ্য থাকে, তা বিএফআইইউকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।
আবুল কালাম আজাদকে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কও ছিলেন।
আবুল কালাম আজাদ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি তার পদ হারান।
তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।
তোফাজ্জল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের পদে নিযুক্ত হন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট তার নিয়োগ বাতিল করা হয়।

