ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং বাকি নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে ইরান। এই প্রণালী ব্যবহার করেই ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তখন ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছিল, তবে সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখানে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ আগামীকাল রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আগামী সোমবার ‘লুসাইল’ এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সে বিবেচনায় সংঘাত শুরুর আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি সরবরাহ এবং আমদানি কার্যক্রমের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

