রাজধানীর কল্যাণপুরে ২০১৬ সালে জাহাজ বিল্ডিং ভবনে নয় তরুণকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছে।
গতকাল রোববার (৮ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় মোট আসামি আটজন। এদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অন্য ছয়জন পলাতক। তারা হলেন—
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
- সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান
- পুলিশ বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, পলাতক ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল।
একই সঙ্গে মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে নয় তরুণকে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন—
- মোতালেব ওরফে আবদুল্লাহ
- রায়হান ওরফে রায়হানুল কবির ওরফে তারেক
- মতিউর রহমান
- মো. জুবায়ের হোসেন
- সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক
- তাজউল হক ওরফে রাশিক
- আবু হাকিম ওরফে নাঈম
- আকিফুজ্জামান খান
- অজ্ঞাতনামা একজন
- এ ঘটনায় রাকিবুল হাসান ওরফে রিগান নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

