চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য নদীপথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ঘাটে পৌঁছে দিতে লাইটার জাহাজ ব্যবহার করা হয়। এই কাজে বর্তমানে ১ হাজার ৫০টি লাইটার জাহাজ নিয়োজিত। কিন্তু ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে জানালেন, জ্বালানি–সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ জরুরি।
বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, “গত বৃহস্পতিবার থেকে লাইটার জাহাজে ডিজেল সরবরাহের সমস্যা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০–৮০টি জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একেকটি জাহাজ ঢাকায় যাওয়ার জন্য তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু অনেকে সরবরাহ না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।”
ডিজেল সংকট শুধু নদীপথে নয়, বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতেও প্রভাব ফেলছে। চট্টগ্রামের ২১টি ডিপোতে রপ্তানি ও আমদানি পণ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। এই কাজে এক হাজার পরিবহনকারী গাড়ি এবং ২৫০ যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়, যেগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে দিনে ৬০–৬৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও যথাযথ সরবরাহ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে ডিপোগুলোর কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানালেন, তেল সরবরাহ বন্ধ হয়নি, তবে সরকার নির্দেশে ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। “গতকাল ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে এসেছে। এ সপ্তাহেই আরও কয়েকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। ফলে সরবরাহ শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে।”

