বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিলিপাইন সরকারের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কাইংলেট। এটিই ছিল রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমে অগ্রগতি আনতে ফিলিপাইনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। ওই ঘটনার বড় একটি অংশের অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলোর মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয় এবং সেই অর্থ ফিলিপাইনে পাঠানো হয়।
এই ইস্যু ছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত বাংলাদেশের সরকারের জন্য ফিলিপাইন সরকারের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনও তিনি পৌঁছে দেন।
দুই পক্ষ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাণিজ্য, শ্রমবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, নার্সিং খাতে সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শিগগিরই সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রম সহযোগিতা এবং দুই দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও নতুন চুক্তির উদ্যোগ চলছে।
বৈঠকে আরও কয়েকটি ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিমান পরিবহন সেবা, দুর্নীতিবিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ পক্ষ ফিলিপাইনের বাজারে ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিরামিক ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে।
বৈঠকের শেষে দুই পক্ষ বাংলাদেশ–ফিলিপাইন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আরসিবিসি ব্যাংকের চারটি হিসাবে পাঠানো হয়। বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে।

