বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ। সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হবে এ অধিবেশন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে এই অধিবেশন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকেই দেশের মানুষ নতুন সংসদের অধিবেশন শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যিনি সাময়িকভাবে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। প্রস্তাবটি আরেকজন সংসদ সদস্য সমর্থন করলে তার সভাপতিত্বেই অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। বিদায়ী স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাগারে থাকার কারণে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর সময় একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।
সূত্র বলছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে দেখা যেতে পারে। তার সভাপতিত্বে প্রথম দিন শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর সংক্ষিপ্ত বিরতির পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন।
পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, বিদায়ী স্পিকারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে হবে, নইলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
প্রথম অধিবেশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আভাসও রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ওয়াকআউট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন বিরতি থাকবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার অধিবেশন বসবে এবং ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ অধিবেশনে সংসদ উপনেতা নির্বাচন, সংসদীয় কমিটি গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলোও চূড়ান্ত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এই সংসদের ওপরই বর্তাবে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার বলছে, একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এজন্য গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

