ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও প্রভাবশালী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনী খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ বিষয়ে একটি শোকপ্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই খামেনির জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, তাঁর মৃত্যু শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের অবসান। তিনি দীর্ঘদিন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। শোকপ্রস্তাবে বাংলাদেশের সংসদের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। তিনি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইরান সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। শিক্ষাজীবনে খামেনি মাশহাদের একটি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।
পরবর্তীতে তিনি ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফে উচ্চতর ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেই সময় তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন। শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছিল বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

