উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক চার লেনে সম্প্রসারিত হওয়ায় এবার আসন্ন ঈদুল ফিতরের যাত্রায় সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে যানজট ও ভোগান্তি থাকবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ের মহাসড়কে নির্মিত ১১টি উড়ালসেতু এবং হাটিকুমরুল এক্সচেঞ্জের সার্ভিস রোড চালু হয়েছে, যা যান চলাচল অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, অতীতে ঈদের সময় এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে ঘরমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তবে এবার সড়ক উন্নয়ন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন বা জরাজীর্ণ যানবাহন মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে যমুনা সেতুর মাধ্যমে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ১৬টি এবং দক্ষিণের ৬টি জেলায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে অতীতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। তবে এবার পুলিশ ও প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
দূরপাল্লার বাস চালক আব্বাস ও বাস সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। আগের মতো ঢিল ছোড়া বা চাঁদাবাজির ঘটনাও নেই। পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে, ফলে পরিবহন চালক ও যাত্রীরা নিরাপদ বোধ করছেন।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরের যাত্রা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় ধরনের যানজট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জেলা পুলিশ ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল জানান, মহাসড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এবং অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে যান চলাচলে আর কোনো বাধা থাকবে না।
সাসেক-২ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, চার লেন মহাসড়ক ও সার্ভিস রোড চালু হওয়ায় এবার ঘরমুখী মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, মহাসড়কে যানজট এড়াতে ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো যানবাহন বিকল হলে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের আশা, উন্নত সড়ক ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির কারণে এবার উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঈদযাত্রা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

