বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি)-এর বিপরীতে টাকায় ঋণ প্রদানের নিয়ম সহজ করেছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ দেশীয় কোম্পানি ও উদ্যোক্তারা অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা একটি সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ১৮(২) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া এফই সার্কুলার নং-৩৪-এর ৩ ও ৬(১) অনুচ্ছেদে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কোম্পানির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্বিশেষে বিদেশি গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ দিতে পারবে। তবে ঋণ প্রদানের সময় সতর্কতার সঙ্গে প্রচলিত আর্থিক নীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
দেশীয় ঋণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি গ্যারান্টি সংক্রান্ত কঠোর শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এসব গ্যারান্টি অবশ্যই নিঃশর্ত, অপরিবর্তনীয় এবং প্রথম দাবিতেই পরিশোধযোগ্য হতে হবে। এছাড়া বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট রেটিং থাকতে হবে।
ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক দেখে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসির বিপরীতে ঋণগ্রহীতা কোনো ধরনের কমিশন, ফি বা আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট আইন, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং আইনি কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যু করতে হলে তা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে হতে হবে এবং সমপরিমাণ নগদ বা গ্যারান্টির বিপরীতে থাকাতে হবে। এছাড়া ঋণ অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে উন্নতির প্রমাণ থাকতে হবে, যেমন টার্নওভার, মুনাফা, নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং হিসাব-নিকাশের রেকর্ড।
গ্যারান্টি নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশি গ্যারান্টার ও দেশীয় ঋণগ্রহীতার ব্যবস্থার ভিত্তিতে ‘গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনস-২০১৮’ অনুযায়ী ইক্যুইটি বিনিয়োগ বা ঋণ হিসেবে প্রতিবেদন করতে হবে। ঋণ হিসেবে রিপোর্ট করলে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ঋণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

