দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করতে হবে।
আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এই ইউনিট গঠন সম্পন্ন করতে হবে।
ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতেই নতুন উদ্যোগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে ক্যাশলেস পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করছে। ইতোমধ্যে বাংলা কিউআর, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিনের মাধ্যমে লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট একটি ইউনিট গঠন জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ী ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে ইউনিটের কাঠামো ও দায়িত্ব নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা।
অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঠিক এক ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন।
জনবলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ইউনিটে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা থাকতে হবে। এমএফএস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুজন কর্মকর্তা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ব্যাংকগুলোতে একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এমএফএস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এই দায়িত্বে থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা।
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজে সহকারী ফোকাল পয়েন্টও নির্ধারণ করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ইউনিটের কাজ কী হবে
নতুন এই ইউনিটের মূল দায়িত্ব হবে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসারে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে বাংলা কিউআর, পিওএস এবং অনলাইন কার্ড পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণেও তারা কাজ করবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাপে গ্রাহক নিবন্ধন ও ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া, দেশজুড়ে নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করার কার্যক্রম জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে ক্যাশলেস কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও এই ইউনিটের ওপর থাকবে।
এ ছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি করা এবং ডিজিটাল লেনদেনে ঝুঁকি কমানোর বিষয়গুলোও ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতেও কাজ করবে এই ইউনিট।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইউনিট গঠন করে নির্ধারিত ছকে বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া প্রতি বছর মার্চ মাসের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে ক্যাশলেস কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

