বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ থেকে মো. আব্দুল জলিলকে অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র জানায়, গতকাল সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে গভর্নর চলে যাওয়ার পর বিকেলে আব্দুল জলিলকে পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস এম আব্দুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন এবং সবাই স্বতন্ত্র পরিচালক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক এম জোবায়দুর রহমান।
এর আগে গত বছরের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে। পরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে সরিয়ে অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়।
ব্যাংকিং সূত্রে জানা যায়, পাঁচ সদস্যের পর্ষদে আব্দুল জলিলকে জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত বলে মনে করা হতো। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে তাকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।
তবে একটি কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় গত বছর তাকে ওই কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে তিনি পরিচালনা পর্ষদ থেকেও বাদ পড়লেন।
এদিকে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। ওই সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।

