বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে আবারও পরিবর্তন এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদ।
অভিযোগের জেরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক অপসারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকিং খাতে কাজ করেছেন আবদুল জলিল। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরে ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেন এবং শেষ দিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান। ফলে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের এক গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে তাঁকে সতর্ক করে। বিষয়টি সামনে আসার পর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তখন তিনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
পরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক একটি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাংকের কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ঘনিষ্ঠ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর এবার তাঁকে পরিচালক পদ থেকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আবদুল জলিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে আবদুল জলিলও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিকেলে তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় এবং নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে এস এম আবদুল হামিদের নিয়োগের ঘোষণা আসে।
নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে এস এম আবদুল হামিদ বলেন, তাঁকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মুঠোফোনে নিয়োগপত্রের কপি পেয়েছেন। ঈদের পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানান। তাঁর মতে, ব্যাংকটিতে বর্তমানে নানা জটিলতা রয়েছে, তাই সামনে অনেক কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানও পরিচালক অপসারণের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। ওই সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। তখন নতুন পর্ষদ গঠন করা হলে মো. আবদুল জলিলকেও সদস্য করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার তাঁকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

