ঈদ সামনে রেখে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি এসেছে। মার্চের প্রথমার্ধেই ব্যাংকিং চ্যানেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে, যা অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের ১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই প্রবাহে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, বিশেষায়িত এবং বিদেশি—সব ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবদান রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭২ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। এ খাতে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, যারা একাই ১৬৪ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এরপর জনতা ব্যাংক ১২৯ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় এবং সোনালী ব্যাংক ৬৩ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ২৭২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এনেছে। এই খাতে এটিই একমাত্র অবদানকারী ব্যাংক।
সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এ খাতে মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১,৫৫৪ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ৩৯৫ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক ২২৮ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ১৬২ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে।
অন্যদিকে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সবচেয়ে কম, মাত্র ৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এই তালিকায় এগিয়ে রয়েছে।
১ থেকে ১৪ মার্চ সময়কালে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় মাসের প্রথমার্ধেই এই শক্তিশালী প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চ শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

