দেশের ব্যাংকিং খাতে সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা এখন খেলাপির খাতায়। এর বাইরে আদায় অযোগ্য হওয়ায় অবলোপন করা হয়েছে আরও অর্ধলাখ কোটি টাকার ঋণ। শুধু ব্যাংক নয়, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণও খেলাপি হয়েছে। লুণ্ঠনের কারণে বীমা কোম্পানি ও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বহু প্রতিষ্ঠানের অর্থও ঝুঁকিতে পড়েছে। আর্থিক খাতের অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও একই রকম।
এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—দেশের আর্থিক খাতের ঘোষিত প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ কোটি টাকা সম্পদের কতটা প্রকৃত অর্থে টিকে আছে। এর আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের কোনো একীভূত তথ্য ছিল না। সম্প্রতি এ সম্পদের আকার নির্ধারণে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিসংখ্যান বিভাগের নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংক, বীমা, এনবিএফআই ও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এর ৯৬ শতাংশই ব্যাংক খাত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাভুক্ত। সাধারণ ও জীবনবীমা কোম্পানির সম্পদ অংশ মাত্র ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অংশীদারত্ব ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সম্পদের হিসাবটি গ্রস, যেখানে গত দেড় দশকে কত সম্পদ লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে তার কোনো উল্লেখ নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সুযোগ ছিল আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার, কিন্তু সরকার এখনো সেই পথে এগোয়নি। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে ফরেনসিক অডিট করেছে সম্পদের আসল মান যাচাইয়ের জন্য। অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো এমন উদ্যোগ নেয়নি।
ব্যাংক ও বীমার পাশাপাশি আর্থিক খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুণ্ঠন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে এলে দেখা যেত আর্থিক খাতের বিপুল সম্পদেরই হদিস নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্যকে ‘কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’—এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ তিনি বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান গ্রস হিসাব। বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর যোগফল থেকে হিসাবটি দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি না, দেখানো সম্পদের কতটা আসলে অক্ষত আছে। কারণ খেলাপি ঋণই এখন সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। বীমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর পুঁজিবাজারের বহু প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও দেউলিয়া। তাই গ্রস তথ্য দিয়ে প্রকৃত সম্পদের পরিমাপ সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সুযোগ ছিল ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে আর্থিক খাতের প্রকৃত সম্পদ উদ্ঘাটনের। কিন্তু কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া কোথাও সে উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত দেড় দশকে আর্থিক খাতে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ পদ্ধতিতে সারানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তেমন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি।’
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেশের আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রকাশ করেছে ‘আ রিপোর্ট অন আদার ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনস (ওএফসি) সার্ভে’। প্রতিবেদনে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ৭৬৮টি অন্যান্য আর্থিক করপোরেশনের মধ্যে ৪৭৭টির তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে মার্চ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে মাত্র ২৫৬টি প্রতিষ্ঠান তথ্য দিয়েছিল। চলতি বছরের জুন প্রান্তিকের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ও সম্পদ ব্যবস্থাপক, মেয়াদি ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের আংশিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রতিবেদনের মাধ্যমে আংশিক হলেও ওএফসিগুলোর অর্থবহ চিত্র পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে সব প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে আর্থিক করপোরেশনগুলোর অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পাওয়া যাবে। এ ধরনের সম্পূর্ণ চিত্র গবেষকদের বোঝাপড়াকে গভীর করবে এবং ঝুঁকি চিহ্নিত করে নীতিনির্ধারকদের আরও কার্যকর নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।
প্রতিবেদনের প্রধান সম্পাদক ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ আকতার তালুকদার। তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ মূল্য বিষয়ে কোনো সমন্বিত পরিসংখ্যান নেই। এজন্য আমরা উদ্যোগী হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের আকার নির্ণয়ের চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন থেকে। তাই এটি সম্পদের গ্রস হিসাব। প্রতিবেদনে দেশের সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশ তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আগামীতে এটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে দেশের আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ ছিল ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকার, যা ডিপোজিটরি করপোরেশনগুলোর—যেমন আমানত সংগ্রহকারী ব্যাংক ও এনবিএফআই—কাছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব খাতের সম্পদ ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা এই আমানত কতটা অক্ষত আছে। কারণ গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার তিনগুণের বেশি বেড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা খেলাপির খাতায়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি ব্যাংকে রূপান্তরের উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি আরও এক ডজনের বেশি ব্যাংকের অবস্থাও এখন বেশ নাজুক।
দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মধ্যে ২১টিরই খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশের বেশি। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে—প্রায় ৩৬ শতাংশ। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আরও ১১টি প্রতিষ্ঠান একেবারেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বীমা খাতেও পরিস্থিতি সংকটজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি ও ৩৩টি জীবন বীমা কোম্পানির সম্পদের তথ্য দেখানো হয়েছে। জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে সম্পদ ৪৮ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা, আর সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর ১৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। এ খাতের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ বিনিয়োগ, দুর্বল সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দাবি পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগ আছে। সার্বিকভাবে বীমা খাতের সুশাসন দুর্বল, আর আর্থিক প্রতিবেদনে হিসাবমান লঙ্ঘনেরও অনেক উদাহরণ পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় বীমা খাতের সম্পদের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচএফসি), বিবি ইকুইটি অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড, বিবি গৃহায়ন তহবিল অ্যান্ড ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এবং স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ফাউন্ডেশন (এসএমইএফ)কে অন্যান্য ওএফসি হিসেবে প্রতিবেদনে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মোট ২৮ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
অমানত সংগ্রহকারী পাঁচটি এনবিএফআইয়ের কাছে রয়েছে ২২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার সম্পদ। এ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (সাবিনকো) এবং দি ইউএই-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইউবিনকো)।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদ ১৭ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ ও ইউপে-এর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছিল, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ থেকে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে এমএফএস খাতের মোট সম্পদ নিরূপণে এর প্রভাব থাকবে।
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি ২৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। জরিপে ৩৭৪টি ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে ১৬৩টি তথ্য দিয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে সম্পদ ১৫ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, যেখানে ৬৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক তথ্য দিয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে নেগেটিভ ইকুইটির সমস্যায় ভুগছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ নেগেটিভ ইকুইটির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। যদিও সঞ্চয় সংরক্ষণের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বিএসইসির ছাড় নিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করছে। ফলে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সম্পদে নেগেটিভ ইকুইটির বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবেদনে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের তথ্য নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে এতে বড় অংকের নেগেটিভ ইকুইটিও অন্তর্ভুক্ত। দেশের অর্থনীতির যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার সঙ্গে পুঁজিবাজারের অগ্রগতি মিলছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা আশা করেছিলাম পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি উন্নত হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা যায়নি। মনে হচ্ছে পুঁজিবাজার সরকারী অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। আগামী যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা পুঁজিবাজারের উন্নয়নের দিকে নজর দেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
১০০টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬৮টি জরিপের জন্য তথ্য দিয়েছে। এ ফান্ডগুলোর কাছে মোট ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। ৩৯টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৭টি তথ্য দিয়েছে, যার সম্পদ ৩ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের কাছে থাকা সম্পদ ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। ৭৫টি কোম্পানির মধ্যে ৪৩টি তথ্য দিয়েছে। বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের সম্পদ ২১২ কোটি টাকা, যেখানে ১২টি তহবিলের মধ্যে ৮টি তথ্য দিয়েছে। আটটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি সবাই তথ্য দিয়েছে, যার কাছে মোট সম্পদ ৬৮ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন আছে। অতীতে কিছু বেমেয়াদি ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের কার্যক্রম ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই কারণে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)কে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য ওএফসি হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে। এ তিন প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে থাকা সম্পদ ৫৬ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা, যা দেশের আর্থিক খাতের মোট সম্পদের মাত্র ১.৩ শতাংশ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের আর্থিক খাতের মধ্যে পুঁজিবাজারের অবস্থান অত্যন্ত নগণ্য। বাজারের আকার বাড়াতে হলে চাহিদা ও জোগান বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য নতুন ভালো আইপিও আনার পাশাপাশি বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করা এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে গতিশীল করতে হবে। আমাদের বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুব কম। যুগোপযোগী নতুন পণ্য আনার পাশাপাশি সুশাসন পরিস্থিতি উন্নত করা জরুরি। মন্ত্রণালয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সব অংশীদারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ কার্যকর হবে না।’

