দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বাড়াতে ঋণের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু জটিলতা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই ব্যাংকঋণে আগ্রহ হারান। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য দুটি পৃথক ঋণ স্কিম চালু করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
ব্যাংকটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সূচনা’ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ‘প্রগতি’ নামে এই দুটি স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় কোনো জামানত ছাড়াই একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
প্রগতি স্কিমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কমপক্ষে দুই বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে শাখা ব্যবস্থাপক এক দিনের মধ্যেই এই দুই ধরনের ঋণ অনুমোদন দিতে পারবেন। এই দুটি স্কিমে পুনঃঅর্থায়নের আওতায় ঋণের সুদহার ৭ শতাংশ। নিয়মিত বা রেগুলার ঋণে সুদ ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূচনা স্কিমে কী সুবিধা:
সূচনা স্কিমটি মূলত নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য। এই ঋণ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ঋণের আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এখানে আগের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়।
এই স্কিমে একজন উদ্যোক্তা ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ব্যবসা শুরু, কার্যকর মূলধন জোগান, স্থায়ী সম্পদ কেনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কাজে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।
সূচনা স্কিমে তিনটি শ্রেণিতে ঋণ দেওয়া হয়। প্রথম শ্রেণিতে দক্ষতার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হবে। পেশাগত, কারিগরি বা সরকারি প্রশিক্ষণ সনদ কিংবা পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স বা ডিপ্লোমা থাকলেও ঋণ পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে আবেদনকারীর ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চান বা যাঁদের সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা রয়েছে, তাঁরা এখানে অগ্রাধিকার পাবেন।
তৃতীয় শ্রেণিতে কমপক্ষে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যাঁদের অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে অথবা যাঁরা আগে কোনো এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সফলভাবে পরিশোধ করেছেন, তাঁরা এই শ্রেণিতে বেশি গুরুত্ব পাবেন।
প্রগতি স্কিমে কী সুবিধা:
প্রগতি ঋণ স্কিমটি মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য। এই স্কিমে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। ঋণ পাক্ষিক কিস্তিতে অর্থাৎ ১৫ দিন পরপর পরিশোধ করতে হবে। সর্বোচ্চ দেড় বছরের মধ্যে এই ঋণ শোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কোনো জামানত প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি কমপক্ষে দুই বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এই দুটি স্কিমে ঋণ নিতে হলে ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। একজন গ্যারান্টার লাগবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদন, টালি খাতা বা স্টকের হিসাব জমা দিতে হবে।
ইউসিবির এসএমই ও কৃষি ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী বলেন, উদ্যোক্তা মনোভাবকে উৎসাহিত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনভ্যস্ত বা প্রথমবারের উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে। যাঁরা আগে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে সফলভাবে ঋণ পরিশোধ করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


1 Comment
আমি এক জন মুরগির খামার ব্যবসায়ী এই লোন নিতে পারবো