সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। পুরো বছরের লেনদেনের মাত্র ৩ শতাংশ এসেছে বিদেশী বিনিয়োগ থেকে। তবুও কিছু ব্যাংকের শেয়ারে তাদের আগ্রহ চোখে পড়েছে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও প্রাইম ব্যাংক পিএলসিতে বিদেশী শেয়ার ধারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইবিএল সিকিউরিটিজের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশীদের শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে সর্বোচ্চ ৪.৪ শতাংশ। প্রাইম ব্যাংকে শেয়ার বৃদ্ধি হয়েছে ২.৬ শতাংশ, যা দ্বিতীয় অবস্থান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, যেখানে শেয়ার বেড়েছে ১.৭ শতাংশ।
অন্য দিকে, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডে শেয়ার বেড়েছে ১.১ শতাংশ, অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেডে ১ শতাংশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডে ০.৬ শতাংশ, সিটি ব্যাংক পিএলসিতে ০.৪ শতাংশ। রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে বেড়েছে ০.৩ শতাংশ।
এদিকে, ২০২৫ সালে বিদেশীদের শেয়ার সবচেয়ে বেশি কমেছে রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডে, যেখানে শেয়ার কমেছে ৩.৮ শতাংশ। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, যেখানে শেয়ার কমেছে ২.৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রেনাটা পিএলসিতে ২.৩ শতাংশ হ্রাস দেখা গেছে।
অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসিতে শেয়ার কমেছে ২.১ শতাংশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসিতে ১.৪ শতাংশ, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসিতে ১.৩ শতাংশ। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডে শেয়ার কমেছে ১.২ শতাংশ, আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসিতে ০.৯ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রক কড়াকড়ি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশী বিনিয়োগ কমে গেছে। এছাড়া কোম্পানিভিত্তিক চ্যালেঞ্জ এবং বাজারের সামগ্রিক প্রতিকূলতা অনেক শেয়ারের আকর্ষণ কমিয়েছে।
তবে বর্তমানে বাজার তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক স্থিতিশীল হলে এবং জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিষ্কার হলে বিদেশী বিনিয়োগ পুনরায় বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬.৭৩ শতাংশ কমেছে। বছরের শেষ কার্যদিবসে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪,৮৬৫ পয়েন্টে, যা ২০২৪ সালে ৫,২১৬ পয়েন্ট ছিল। গড় লেনদেন ১৫.৭১ শতাংশ কমে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নেমেছে। তবুও বাজার মূলধন বেড়ে ২.৩৫ শতাংশ হয়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

