সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারই বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুনাফা আগের হারের সমানভাবে প্রদান হবে।
গত বৃহস্পতিবার মুনাফার হার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা তুঙ্গে পৌঁছায়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, বিশেষত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। গতকাল রোববার সরকারি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শেষে প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের হারই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকার চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট পরিচালনা করছে। প্রতি ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি বিনিয়োগে আলাদা মুনাফা ধার্য করা হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কিছুটা কম হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারে। মেয়াদ পূর্ণের আগে ভাঙলে প্রথম চার বছরের মুনাফা কম দেওয়া হয়। মুনাফা পরিশোধে মূল টাকা থেকে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদে মুনাফার হার ১১.৯৩ শতাংশ। এটি কমিয়ে ১০.৪৪ শতাংশ করার প্রস্তাব ছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে নামানো হয়েছিল। সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আগের অবস্থায় থাকবে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ট্রেজারি বন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ৫ বছর ও ২ বছরের ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার (সর্বশেষ ৬ মাসের নিলামের ভিত্তিতে) অনুযায়ী মুনাফা নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সরকারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় তারা সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা ব্যবহার করেন। মাসিক সংসার খরচের একটি অংশও আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে। দেশের দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু মাসে এটি কিছুটা কমলেও ৮–৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুনাফা কমানো নিয়ে সমালোচনা বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিবিদরাও স্বল্প আয়ের মানুষদের সুবিধার্থে মুনাফা হার কমানোর বিরোধিতা করেন।

