একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংক একীভূত করতে নেওয়া স্কিমের অস্পষ্টতায় বিপাকে পড়েছেন অনেক চলতি ও সঞ্চয়ী আমানতকারী। তাঁরা টাকা তুলতে না পেরে শাখায় শাখায় ভিড় করছেন। তবে ব্যাংকাররা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। এখন পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের আমানত ফেরতের সময়সূচিসহ সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি স্কিম ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, যেসব গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকা পর্যন্ত, তাঁদের অর্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় এই অর্থ যেকোনো সময় সম্পূর্ণ তোলা যাবে। যাঁদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে কিস্তিতে টাকা তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি ও সঞ্চয়ী আমানতের অর্থ বিভিন্ন মেয়াদে উত্তোলন করা যাবে। তবে পুরো টাকা তুলতে সর্বোচ্চ ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। অন্য আমানতকারীদের ক্ষেত্রে মেয়াদ বৃদ্ধি ও বাজারভিত্তিক মুনাফাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
কিন্তু স্কিমের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবধারী দুই লাখ টাকাও তুলতে পারছেন না। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মকর্তারা জানান, কেবল মূল জমাকৃত দুই লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এসব হিসাবে জমা হওয়া সুদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে স্থায়ী আমানতের সুদও পরিশোধ করা হচ্ছে না। ওই সুদের অর্থ সঞ্চয়ী হিসাবে যোগ হলেও তা তোলা যাচ্ছে না। গ্রাহকদের মতে, সুদের টাকা তোলার সুযোগ থাকলে আমানত নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা কমত।
ব্যাংক কর্মকর্তারা আরও জানান, সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের সুদের টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে জমা হলেও তা উত্তোলন করা যাচ্ছে না। প্রবাসী আয়ের অর্থ সঞ্চয়ী হিসাবে জমা হলে সেটিও তোলা যাচ্ছে না। স্বামী-স্ত্রী বা অন্যান্য যৌথ হিসাব থেকেও অর্থ উত্তোলনে বাধা রয়েছে। এসব কারণে বড় একটি অংশের আমানতকারীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, যত দ্রুত এসব অস্পষ্টতা দূর করা যাবে, একীভূত উদ্যোগ তত দ্রুত এগোবে।
দুটি ব্যাংকের প্রশাসক বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী আমানত বিমা তহবিল থেকে কেবল জমাকৃত অর্থই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর বাইরে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামনে সব ধরনের লেনদেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

