দেশের পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা জোরদারের উদ্দেশ্যে আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিস্তারিত ও নির্ভুল তথ্য প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাসসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনার আওতায় থাকবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান তফসিলি ব্যাংকে ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। এই অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা, পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থা রক্ষা করা হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য প্রদানের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের স্থিতি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে করা বিনিয়োগ, ট্রাস্ট ফান্ডস ইন ট্রানজিট এবং ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। নির্ধারিত ফরম্যাট ব্যবহার করে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এসব তথ্য জমা দিতে হবে।
সার্কুলারে সতর্ক করা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য বা ভুল তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ৩৭(৩) ধারা অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান আদালতে দণ্ডনীয় অপরাধ। একই আইনের ৪১ ধারার অধীনে জরিমানা আরোপের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ১৮(৪) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

