সাধারণ আমানতকারীরা যদি মেয়াদপূর্তির আগে মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট (এমটিডিআর) ভাঙেন, তবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক শর্ত অনুযায়ী সেভিংস রেটে মুনাফা দেয়। এতে তারা দুই শতাংশ মুনাফা পান কিন্তু ব্যাংকের এক পরিচালক ও তার দুই মেয়ে এ নিয়মের বাইরে গেছেন। তারা মেয়াদপূর্তির আগেই এমটিডিআর ভাঙলেও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন। খাত সংশ্লিষ্টরা এটিকে সাধারণ গ্রাহকের সঙ্গে বৈষম্যপূর্ণ বলে দেখছেন।
জানা গেছে, পরিচালক এসএএম হোসাইন গত বছরের ২৭ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্যাংকের পর্ষদ সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠান। তবে গুলশান-১ শাখা প্রস্তাবে তাকে পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেনি। প্রস্তাবে বলা হয়, এসএএম হোসাইন ও তার পরিবার বহুদিন ধরে গুলশান-১ শাখার স্থায়ী গ্রাহক। তাদের ওই শাখায় প্রায় ১২ কোটি টাকা এমটিডিআর ও ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট (এসএনডি) আছে।
সম্প্রতি এসএএম হোসাইন ও তার দুই মেয়ে সোহানা ও সাবিয়া হোসাইন ১৪টি এমটিডিআর হিসাব বন্ধ করেছেন। এতে মোট ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ছিল। হিসাব বন্ধ করলেও তারা ওই টাকা শাখা থেকে সরিয়ে নেননি। মেয়াদপূর্তির সময় উত্তোলন করলে তারা মুনাফা বাবদ ১০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পেতেন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির ৭-৭০ দিন বাকি থাকতে এমটিডিআর ভাঙায় তারা মাত্র দুই শতাংশ হারে ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৮ টাকা মুনাফা পেয়েছেন। এতে মোট ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বড় অঙ্কের এই ক্ষতি এড়াতে তারা শাখার কাছে আবেদন করেন, মেয়াদপূর্তির আগে হিসাব ভাঙলেও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার জন্য। শাখা আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে অনুমোদন চায়। পর্ষদ সভা তাদের অনুরোধ মঞ্জুর করে।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র অনুযায়ী, গুলশান-১ শাখার প্রস্তাবে কোনো জায়গায় এসএএম হোসাইনকে পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের বড় অঙ্কের গ্রাহক হিসেবে সুবিধা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এতে বলা হয়, এই গ্রাহক আরও নতুন আমানত দিতে সহযোগিতা করবেন। প্রস্তাব চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এসও অ্যান্ড জিবি ইনচার্জ জারমিনা আকতার, এসএভিপি অ্যান্ড অপারেশন্স ম্যানেজার পাপিয়া চামেলী ও এসভিপি অ্যান্ড হেড অব ব্র্যাঞ্চ মীর মো. আব্বাস আলী।
১৯৯৯ সালের ১১ মে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে একটানা ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি পদত্যাগ করেন। তার স্থলে নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। একই সময়ে এমডি হিসেবে আবার দায়িত্ব নেন মো. হাবিবুর রহমান।
এসএএম হোসাইন ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হন। তিনি ভিক্টর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া ভিক্টর ইলেকট্রনিকস, লিংক আপ স্টিল মিলস লিমিটেড ও ইস্টার্ন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ (চট্টগ্রাম) লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান।
পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহক পরিচয়ে এই সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। এমডি মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

